bdrate.fyi
English

ঋণের কিস্তি (ইএমআই) কীভাবে হিসাব হয়: সূত্র, উদাহরণ ও খরচ

হালনাগাদ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ · ৩ মিনিটে পড়া

ইএমআই (EMI, Equated Monthly Instalment) হলো ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে দেওয়া একই অঙ্কের কিস্তি। প্রতিটি কিস্তির একটা অংশ সুদ, বাকিটা দিয়ে আসল ঋণ শোধ হয়। এই লেখা শুধু হিসাবটা বোঝায়; এটি আর্থিক পরামর্শ নয়।

সূত্র

হ্রাসমান স্থিতি (reducing balance) পদ্ধতিতে প্রতি মাসের সুদ ধরা হয় শুধু তখনো বাকি থাকা ঋণের ওপর। এমন ঋণ সমান কিস্তিতে শোধের সূত্র:

EMI = P × r × (১ + r)ⁿ ÷ [(১ + r)ⁿ − ১]

এখানে P ঋণের পরিমাণ, r মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২ ÷ ১০০) আর n কিস্তির সংখ্যা (মাস)। ইএমআই ক্যালকুলেটর এই সূত্রেই হিসাব করে।

একটি উদাহরণ

ধরা যাক, ঋণ ৫,০০,০০০ টাকা, মেয়াদ ৩ বছর (৩৬ মাস), বার্ষিক সুদ ১২%। এই ১২% শুধু উদাহরণ, কোনো ব্যাংকের হার নয়। মাসিক হার ১%, আর ১.০১-এর ৩৬ ঘাত ≈ ১.৪৩০৭৬৯।

টাকা
মাসিক কিস্তি (ইএমআই) ১৬,৬০৭.১৫
মোট পরিশোধ ৫,৯৭,৮৫৭.৫৮
মোট সুদ ৯৭,৮৫৭.৫৮
মাস সুদ আসল বাকি ঋণ
১ ৫,০০০.০০ ১১,৬০৭.১৫ ৪,৮৮,৩৯২.৮৫
২ ৪,৮৮৩.৯৩ ১১,৭২৩.২২ ৪,৭৬,৬৬৯.৬৩

প্রথম মাসের সুদ ৫,০০,০০০ টাকার ১%; কিস্তির বাকিটা ঋণ কমায়। ঋণ যত কমে, সুদও তত কমে: শেষ মাসে সুদ মাত্র ১৬৪ টাকার মতো। রাউন্ডিং বা দিন গোনার নিয়মের কারণে ব্যাংকের হিসাব কয়েক টাকা আলাদা হতে পারে। একই ঋণ ৫ বছরে নিলে কিস্তি নামে ১১,১২২.২২ টাকায়, কিন্তু মোট সুদ বেড়ে হয় ১,৬৭,৩৩৩.৪৩ টাকা।

ফ্ল্যাট রেট কেন সস্তা দেখায়

ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদজুড়ে মূল ঋণের পুরোটার ওপর সুদ ধরা হয়, যদিও প্রতি মাসে ঋণের কিছুটা শোধ হয়ে যাচ্ছে। ধরা যাক, একই ঋণের প্রস্তাব এল “৭% ফ্ল্যাট” হারে:

১২% হ্রাসমান ৭% ফ্ল্যাট
মোট সুদ ৯৭,৮৫৭.৫৮ ১,০৫,০০০ (৫,০০,০০০ × ৭% × ৩)
মাসিক কিস্তি ১৬,৬০৭.১৫ ১৬,৮০৫.৫৬
মোট পরিশোধ ৫,৯৭,৮৫৭.৫৮ ৬,০৫,০০০

“৭%”-এর ঋণে খরচ ৭,১৪২ টাকা বেশি; হ্রাসমান হিসাবে এর হার প্রায় ১২.৮%। তিন বছরের ঋণে ফ্ল্যাট রেটকে প্রায় দ্বিগুণ করলে হ্রাসমান হারের কাছাকাছি পাওয়া যায়, কারণ গড়ে ঋণের মোটামুটি অর্ধেকই বাকি থাকে।

সুদের বাইরে যে খরচ

ব্যাংকের চার্জ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাস্টার সার্কুলার (জুন ২০২১) ব্যাংকগুলোর জন্য এই সীমা ঠিক করেছে:

  • প্রসেসিং ফি: ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ০.৫%, তবে ১৫,০০০ টাকার বেশি নয় (উদাহরণের ঋণে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা); ৫০ লাখের বেশি হলে সর্বোচ্চ ০.৩%, ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ঋণ আবেদন ফি নেওয়া যায় না।
  • ডকুমেন্টেশন, সিআইবি, স্ট্যাম্প, আইনি ও জামানত মূল্যায়ন খরচ: প্রকৃত খরচ অনুযায়ী। সুদের বাইরে সার্ভিস চার্জ বা ঋণ ব্যবস্থাপনা ফির মতো বাড়তি চার্জ নেওয়া যায় না।
  • মেয়াদের আগে পুরো শোধ (Early Settlement): বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ০.৫%। উদাহরণের ঋণে ১২টি কিস্তির পর প্রায় ৩,৫২,৭৯২ টাকা বাকি থাকে, তাই ফি সর্বোচ্চ প্রায় ১,৭৬৪ টাকা।
  • দেরিতে পরিশোধ: ১৩ মে ২০২৬ থেকে মেয়াদি ঋণে দণ্ড সুদ সর্বোচ্চ ০.৫% (আগে ছিল ১.৫%), শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর।

ব্যাংককে চার্জের তালিকা (সিডিউল অব চার্জেস) শাখায় ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হয়, আর তালিকার বাইরে কোনো চার্জ নেওয়া যায় না।

সুদের হার এখন কীভাবে ঠিক হয়

২০২৩ সালের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ম করে, ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে রেফারেন্স রেট স্মার্ট (SMART, ছয় মাসের ট্রেজারি বিলের সুদহারের চলমান গড়) যোগ নির্দিষ্ট মার্জিন। ৮ মে ২০২৪ স্মার্ট তুলে দেওয়া হয়; এখন সুদহার বাজারভিত্তিক, ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ঠিক হয়। যে নিয়মগুলো বহাল আছে:

  • প্রতিটি ব্যাংক খাতভিত্তিক সুদহার ঘোষণা করে, আর গ্রাহকের ঝুঁকি বুঝে তার চেয়ে ১% কম বা বেশিতে ঋণ দিতে পারে।
  • ঋণের মঞ্জুরিপত্রে লিখতে হয় সুদহার স্থির না পরিবর্তনশীল; পরিবর্তনশীল হলে বছরে সর্বোচ্চ কতবার ও কত শতাংশ বাড়তে পারে।
  • ভোক্তাঋণ ও গৃহঋণসহ সব ব্যাংকের ঘোষিত হার পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণের সুদহারের পাতায়।

ঋণের প্রস্তাব মেলানোর আগে

  • ফ্ল্যাট নয়, হ্রাসমান হার মিলিয়ে দেখুন।
  • শুধু কিস্তি নয়, মোট পরিশোধ দেখুন।
  • প্রসেসিং ফি ও অন্য চার্জ খরচে যোগ করুন।
  • সুদহার স্থির না পরিবর্তনশীল, জেনে নিন।
  • মেয়াদের আগে পুরো বা আংশিক শোধের ফি জিজ্ঞেস করুন।
  • কিস্তি যেন মাসিক আয়ের মধ্যে স্বচ্ছন্দে আঁটে।

সূত্র

লিখেছে bdrate.fyi। নিয়ম ও দাম বদলায়: সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নিন। ভুল চোখে পড়লে জানান: [email protected]

আরও দেখুন

সব পাতা