নামাজের সময় কীভাবে হিসাব হয়: ১৮°, হানাফি আসর ও জেলাভেদে পার্থক্য
হালনাগাদ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ · ৪ মিনিটে পড়া
নামাজের সময় ঠিক হয় সূর্যের অবস্থান দেখে, তাই জায়গা আর তারিখ জানলে আগে থেকেই হিসাব করা যায়। মাসআলাগত প্রশ্নে স্থানীয় মসজিদ বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা মেনে চলুন; এখানে শুধু হিসাবের পদ্ধতি।
ছয়টি সময়ের মানে
- ফজর: ভোরে প্রথম আলো ফোটা (সুবহে সাদিক); হিসাবে সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে থাকার সময়। ওয়াক্ত থাকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
- সূর্যোদয়: সূর্যের প্রথম কিনারা দিগন্তে দেখা দেওয়া। এটি নামাজের সময় নয়, ফজরের শেষ সীমা।
- যোহর: দুপুরে সূর্য সবচেয়ে উঁচুতে উঠে হেলে পড়া শুরু করলে; সাইটে মধ্যগগনের ১ মিনিট পরে।
- আসর: বিকেলে ছায়া নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যে পৌঁছালে (নিচে দেখুন)।
- মাগরিব: সূর্য পুরোপুরি ডুবে গেলে।
- এশা: সন্ধ্যার আভা মিলিয়ে গেলে; হিসাবে সূর্য ১৮° নিচে নামলে।
bdrate.fyi-র নামাজের সময়সূচি ৬৪ জেলা সদরের অক্ষাংশ-দ্রাঘিমা থেকে করাচি পদ্ধতিতে (ইউনিভার্সিটি অব ইসলামিক সায়েন্সেস, করাচি) হিসাব করা, যা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানে প্রচলিত।
১৮° আর হানাফি আসরের মানে
সূর্য দিগন্তের ১৮° নিচে থাকা জ্যোতির্বিজ্ঞানে “অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টুইলাইট”-এর সীমা; এর বাইরে আকাশ কার্যত পুরো অন্ধকার। তাই বাংলাদেশে ফজর থেকে সূর্যোদয়, আর মাগরিব থেকে এশা, প্রায় সোয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টা। অন্য কিছু পদ্ধতিতে কোণ ১৫° বা ১৯.৫°; কোণ ছোট হলে ফজর দেরিতে আর এশা আগে আসে।
আসরের নিয়ম ছায়া নিয়ে। দুপুরেও সব জিনিসের একটা ছোট ছায়া থাকে; ধরা যাক ১ মিটার লাঠির দুপুরের ছায়া ০.৩ মিটার।
- শাফেয়ি, মালেকি ও হাম্বলি মত (প্রায়ই “স্ট্যান্ডার্ড” বলা হয়): ছায়া লাঠির সমান যোগ দুপুরের ছায়া, অর্থাৎ ১.৩ মিটার হলে আসর।
- হানাফি মত: ছায়া লাঠির দ্বিগুণ যোগ দুপুরের ছায়া, অর্থাৎ ২.৩ মিটার হলে।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ মুসলমান হানাফি মাজহাব মানেন, তাই সাইটে হানাফি মতের আসর দেখানো হয়। ব্যবধান কম নয়: ৫ নভেম্বর ২০২৬ ঢাকায় হানাফি আসর ৩:৪১, অন্য মতে ২:৫৪। এই ব্যবধান শীতে প্রায় ৪৫ মিনিট, গ্রীষ্মে প্রায় ৮০ মিনিট।
জেলাভেদে পার্থক্য: পূর্বে আগে, পশ্চিমে পরে
পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০° ঘোরে, অর্থাৎ দ্রাঘিমার প্রতি ডিগ্রিতে ৪ মিনিট; পূর্বের জায়গায় সূর্য আগে ওঠে, আগে ডোবে। বাংলাদেশ ৮৮°০১’ থেকে ৯২°৪১’ পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত, প্রায় ৪.৭°, তাই দুই প্রান্তে ফারাক প্রায় ১৯ মিনিট। জেলা সদরের মধ্যে সবচেয়ে পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সবচেয়ে পূর্বে বান্দরবান। ৫ নভেম্বর ২০২৬-এর হিসাব:
| জেলা | ফজর | যোহর | মাগরিব |
|---|---|---|---|
| চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ৪:৫৮ | ১১:৫১ | ৫:২৫ |
| ঢাকা | ৪:৪৯ | ১১:৪৩ | ৫:১৭ |
| সিলেট | ৪:৪৪ | ১১:৩৭ | ৫:১০ |
| বান্দরবান | ৪:৪১ | ১১:৩৬ | ৫:১২ |
উত্তর-দক্ষিণও প্রভাব ফেলে: শীতে উত্তরের দিন একটু ছোট, তাই এ দিন সিলেটে মাগরিব বান্দরবানের আগে। এই অক্ষাংশে দ্রাঘিমার এক ডিগ্রি প্রায় ১০০ কিলোমিটার, তাই একই জেলাতেও মোটামুটি প্রতি ২৫ কিলোমিটার পূর্ব-পশ্চিমে সময় ১ মিনিট সরে।
ঋতুভেদে পার্থক্য
২০২৬ সালে ঢাকায় (অন্য বছরেও প্রায় একই):
| সময় | সবচেয়ে আগে | সবচেয়ে দেরিতে |
|---|---|---|
| ফজর | ৩:৪৩ (জুনের মাঝামাঝি) | ৫:২৪ (জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ) |
| যোহর | ১১:৪৩ (অক্টোবরের শেষ-নভেম্বরের শুরু) | ১২:১৪ (ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ) |
| মাগরিব | ৫:১১ (নভেম্বরের শেষ-ডিসেম্বরের শুরু) | ৬:৫০ (জুলাইয়ের শুরু) |
সবচেয়ে আগে মাগরিব বা সবচেয়ে দেরিতে ফজর সবচেয়ে ছোট দিনে পড়ে না, কারণ সূর্য মধ্যগগনে আসার সময়ই সারা বছর আগে-পিছে হয়: পৃথিবীর হেলানো অক্ষ আর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কারণে গড় সময়ের চেয়ে নভেম্বরের শুরুতে প্রায় ১৬ মিনিট আগে, ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৪ মিনিট পরে।
মসজিদ বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সঙ্গে অমিল কেন
- জামাত: সময়সূচিতে ওয়াক্ত শুরুর সময়; আজান ও জামাত সাধারণত কিছু পরে, প্রতিটি মসজিদ নিজের মতো ঠিক করে।
- জায়গা: সাইটের হিসাব জেলা সদরের একটি বিন্দুর জন্য। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের রমজানে ৬৪ জেলার আলাদা সূচি দেয়, যাতে সাহরির শেষ সময় ধরা হয় জেলার পূর্ব প্রান্ত অনুযায়ী, ফজরের আজান ও ইফতার পশ্চিম প্রান্ত অনুযায়ী। তাই সূচির সাহরি একটু আগে, ইফতার একটু পরে পড়ে: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঢাকায় ফাউন্ডেশনের সাহরির শেষ ৫:১২, ইফতার ৫:৫৮; এই সাইটের হিসাবে ঢাকা সদরে ফজর ৫:১৩, মাগরিব ৫:৫৬।
- সতর্কতামূলক সময়: আগে ফাউন্ডেশনের সূচিতে সাহরি সুবহে সাদিকের ৩ মিনিট আগে শেষ, ফজর ৩ মিনিট পরে শুরু আর ইফতার সূর্যাস্তের ৩ মিনিট পরে ধরা হতো। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফাউন্ডেশন জানায়, নতুন সূচিতে এই বাড়তি সময় নেই; কেউ চাইলে নিজ দায়িত্বে সতর্কতা নিতে পারেন। পুরোনো ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তাই কয়েক মিনিট অমিল থাকতে পারে।
সাহরি ও ইফতার
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সূচিতে লেখা সাহরির শেষ সময় মূলত ফজরের ওয়াক্ত শুরুর সময়। ইফতারের সময় মাগরিব, অর্থাৎ সূর্যাস্ত। তাই নামাজের সময়সূচি-র প্রতিটি জেলার পাতায় ফজরকে সাহরির শেষ আর মাগরিবকে ইফতার হিসেবে দেখানো হয়, রমজানের পুরো মাসের তালিকাসহ। সেখানে রমজানের তারিখ উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার ধরে; বাংলাদেশে চাঁদ দেখার ওপর রমজান এক দিন পরে শুরু হতে পারে। সাবধানতার জন্য সাহরি কয়েক মিনিট আগে শেষ করুন।
সূত্র
- বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশ (অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমা)
- PrayTimes.org: নামাজের সময় হিসাবের পদ্ধতি ও আসরের দুই মত
- উইকিপিডিয়া: Salah times (ওয়াক্তের সংজ্ঞা ও করাচি পদ্ধতি)
- উইকিপিডিয়া: Islam in Bangladesh
- যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস: টুইলাইটের সংজ্ঞা
- এএমএসআই: দ্রাঘিমা ও সময় ও উইকিপিডিয়া: Longitude
- আর্থস্কাই: ইকুয়েশন অব টাইম
- দেশ রূপান্তর: সাহরি-ইফতারের সময়সূচি আলেম-ওলামাদের তৈরি (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)
- দেশ রূপান্তর: রমজানের সাহরি-ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ (২২ জানুয়ারি ২০২৬)
- খবরসংযোগ: সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ (২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
- ইত্তেফাক: চলতি বছরের রমজানের সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
- নির্দিষ্ট দিনের সময়গুলো এই সাইটের হিসাব (করাচি পদ্ধতি, হানাফি আসর, জেলা সদরের অবস্থান)
লিখেছে bdrate.fyi। নিয়ম ও দাম বদলায়: সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নিন। ভুল চোখে পড়লে জানান: [email protected]