bdrate.fyi
English

সরকারি ছুটি কীভাবে ঠিক হয়: সাধারণ, নির্বাহী আদেশ ও ঐচ্ছিক ছুটি

হালনাগাদ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ · ৪ মিনিটে পড়া

বাংলাদেশে প্রতি বছরের সরকারি ছুটি আগেভাগে ঘোষণা হয়, তবে সব ছুটি এক রকম নয়। কোনটি সবার, কোনটি শুধু নিজ ধর্মের কর্মচারীর, আর কোনটির তারিখ চাঁদ দেখার পর সরে যেতে পারে, জেনে নিন। এ বছরের তারিখ দেখুন সরকারি ছুটির তালিকা পাতায়।

তালিকা কে ঠিক করে

পরের বছরের ছুটির তালিকা তৈরি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা, তারপর মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। ২০২৬ সালের তালিকা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন করে ৬ নভেম্বর ২০২৫, প্রজ্ঞাপন জারি হয় ৯ নভেম্বর ২০২৫। ২০২৭ সালের ২৯ দিনের তালিকা (সাধারণ ১৫, নির্বাহী আদেশে ১৪) মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে ২ নভেম্বর ২০২৬।

তালিকাটি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য। যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব আইনে চলে বা যাদের সেবা অত্যাবশ্যক ঘোষিত, তারা নিজস্ব নিয়মে ছুটি ঠিক করে।

পরেও ছুটি যোগ হতে পারে। ২০২৬ সালে সংসদ নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপনে ছুটি দেওয়া হয়, আর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ১৮ মার্চ যোগ হওয়ায় ঈদুল ফিতরে টানা ৭ দিন (১৭–২৩ মার্চ) ছুটি মেলে। কিছু ছুটি স্থানীয়, যেমন চৈত্র সংক্রান্তিতে তিন পার্বত্য জেলায়।

তিন ধরনের ছুটি

২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন আর নির্বাহী আদেশে ১৪ দিন, মোট ২৮ দিন; এর কয়েকটি শুক্র-শনিবারে পড়েছে। ঐচ্ছিক ছুটি আলাদা হিসাব।

ধরন কী থাকে ২০২৬ সালের উদাহরণ
সাধারণ ছুটি জাতীয় দিবস ও বড় উৎসবের মূল দিন ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, দুই ঈদের দিন, বিজয়া দশমী, ১৬ ডিসেম্বর, বড়দিন
নির্বাহী আদেশে ছুটি উৎসবের আগে-পরের দিন ও আরও কিছু দিবস ঈদের আগে-পরের দিন, শবে বরাত, পয়লা বৈশাখ, আশুরা, মহানবমী
ঐচ্ছিক ছুটি নিজ ধর্মের উৎসব তালিকায় মুসলিম ৫, হিন্দু ৯, খ্রিস্টান ৮, বৌদ্ধ ৭ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ২ দিন

প্রজ্ঞাপনে রোজার ঈদে মোট ৫ দিন, কোরবানির ঈদে ৬ দিন ও দুর্গাপূজায় ২ দিন ছুটি ছিল। ঐচ্ছিক তালিকা থেকে একজন কর্মচারী নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন নিতে পারেন, বছরের শুরুতে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে। এই ছুটি সাধারণ, নির্বাহী আদেশের বা সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটি

দুই ঈদ, শবে বরাত, শবে কদর, আশুরা ও ঈদে মিলাদুন্নবী হিজরি চান্দ্র মাস ধরে পালিত হয়। তালিকায় এগুলোর সম্ভাব্য তারিখ থাকে, আর প্রজ্ঞাপনেই বলা থাকে যে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল ছুটি প্রয়োজনে বদলাতে পারে।

চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটি সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বসে; চাঁদ দেখা গেলে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে বলা হয়। ২৯ রোজার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ, না দেখা গেলে ৩০ রোজা পূর্ণ হয়। তাই ছুটি এক দিন এগিয়ে বা পিছিয়ে যেতে পারে।

২০২৬ সালে ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ঈদ হয় শনিবার, ২১ মার্চ, তালিকার তারিখেই; দেখা গেলে ঈদ হতো এক দিন আগে।

ব্যাংকের ছুটি আলাদা হতে পারে

সরকারের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকের জন্য আলাদা সার্কুলারে ছুটির তালিকা দেয়; ২০২৬ সালে তাতে সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ২৮ দিন। নতুন ছুটি এলে নতুন সার্কুলার আসে, যেমন নির্বাচনের জন্য ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সব ব্যাংক বন্ধ ছিল।

এ ছাড়া প্রতি বছর ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর “ব্যাংক হলিডে”। দিন দুটি সরকারি ছুটির তালিকায় নেই, কিন্তু হিসাব সমাপনীর জন্য ব্যাংক গ্রাহকসেবা দেয় না। ১ জুলাই ২০২৬-এ শাখায় নগদ লেনদেন, চেক নিষ্পত্তি ও পে-অর্ডার বন্ধ ছিল, শেয়ারবাজারেও লেনদেন হয়নি; তবে এটিএম, কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং চালু ছিল, যদিও কিছু আন্তঃব্যাংক সেবা বন্ধ থাকতে পারে।

পরিকল্পনার সময় যা দেখবেন

  • তারিখ মিলিয়ে নিন সরকারি ছুটির তালিকা পাতায়। এটি গুগলের বাংলাদেশ ছুটির ক্যালেন্ডার থেকে প্রতিদিন হালনাগাদ হয়, তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনই চূড়ান্ত।
  • চাঁদনির্ভর ছুটিতে এক দিন হাতে রাখুন, বিশেষ করে যাত্রার টিকিট কাটার সময়।
  • নতুন ঘোষণা খেয়াল রাখুন: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন আর বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার।
  • ব্যাংকের কাজ আগে সারুন লম্বা ছুটি, ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বরের আগে।
  • ঐচ্ছিক ছুটি বছরের শুরুতেই চেয়ে রাখুন। বেসরকারি অফিস বা জরুরি সেবায় নিয়ম আলাদা হতে পারে; নিজের অফিস থেকে জেনে নিন।

সূত্র

লিখেছে bdrate.fyi। নিয়ম ও দাম বদলায়: সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নিন। ভুল চোখে পড়লে জানান: [email protected]

আরও দেখুন

সব পাতা